Friday, 18 November 2016

ভরতনাট্যম – মুদ্রা

মুদ্রা

আস্যেনালম্বয়েদ গীতং হস্তেনাথং প্রদর্শয়েৎ ।
চক্ষুভাং দর্শয়েদ্ভাবং পাদাভ্যাঅং তালমাদিসেৎ ।।
যতো হস্তস্ততো দৃষ্টিষতো দৃষ্টিষতো মনঃ ।
যতো মনস্ততো ভাব যতো ভাবস্ততো রসঃ ।।

    
    অর্থাৎ, মুখের দ্বারা গান অবলম্বন করা উচিত, হস্তের দ্বারা গানের অর্থ প্রদর্শন, চক্ষু দ্বারা ভাব প্রদর্শন ও পদদ্বয়ে তাল রক্ষা করা উচিত। যেখানে হস্ত সেখানে দৃষ্টি, যেখানে দৃষ্টি সেখানেই মনের গতি, যেখানে মনের গতি সেখানেই ভাব, আর সেখানেই রসের উৎপত্তি।
    
    নৃত্যকলায় রস ও ভাব প্রকাশের জন্য প্রয়োজন হয় মুদ্রা। ‘মুদ্রং আনন্দং রাতি দাতি’ অর্থাৎ মুদ্রা বলতে বোঝায় যা আনন্দ দান করে। নৃত্যে আঙ্গিকাভিনয়ের জন্য বিভিন্ন হস্ত মুদ্রা বিভিন্ন ভাব ও রস পরিবেশন করে।
রসোৎপত্তি হলে তবেই নাচ স্বাদযুক্ত হয়। ফলত প্রতীকধর্মী মুদ্রাগুলি মানুষের আন্তঃভাব ও রসকে বাস্তবের জগতে প্রতিফলন ঘটায়। হস্ত অর্থাৎ হাতের দ্বারা সৃষ্ট মুদ্রার মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। দৃষ্টি আকর্ষিত হওয়ার ফলে মন আকৃষ্ট হয়। দৃষ্টি আকর্ষিত হওয়ার ফলে ভাবের উদ্রেক হয় এবং তা রস সৃষ্টিতে পরিণত হয়। অবশ্য বৈদিক যুগে পূজায় ভাব প্রকাশের জন্য মুদ্রার প্রচলন ছিল। সামগানে ছন্দ, তাল ও ভাবকে যথাযথ প্রকাশের জন্য মুদ্রার ব্যবহার করা হত।
    
    নাট্যশাস্ত্র এবং অভিনয় দর্পণ অনুসারে অসংযুক্ত ও সংযুক্ত মুদ্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে নাট্যশাস্ত্র এবং অভিনয় দর্পণের মুদ্রার সংখ্যা ও প্রয়োগে কিছু পার্থক্য আছে।
নাট্য শাস্ত্রের মতে – ২৪ টি অসংযুক্ত হস্তের উল্লেখ আছে।

পতাক
কপিত্থ
চতুর
ত্রিপতাক
কটকামুখ
ভ্রমর
কর্তরীমুখ
সূচী
হংসাস্য
অর্ধচন্দ্র
পদ্মকোশ
হংসপক্ষ
অরাল
সর্পশীর্ষ
সন্দংশ
শুকতুণ্ড
মৃগশীর্ষ
মুকুল
মুষ্টি
কাঙ্গুল
উর্ণনাভ
শিখর
অলপদ্ম
তাম্রচুড়

 চিত্র সৌজন্যেঃ internet (google, www.pinterest.com , www.colorbox.com )











No comments:

Post a Comment