Monday, 28 November 2016

ভরতনাট্যম – বর্তমান অবস্থা, শ্রী কৃষ্ণ আয়ার ও রুক্মিণী দেবী

বর্তমান অবস্থা, শ্রী কৃষ্ণ আয়ার ও রুক্মিণী দেবী

নটনাদীবাদ্যরঞ্জনম ও শিলাপ্পদিকারম এই দুটি বই থেকে আমরা ভরতনাট্যম নৃত্যধারা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পেয়ে থাকি। অনেকে মনে করেন ভরতনাট্যম অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মাদ্রাজ ও অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিখ্যাত কবি ও সঙ্গীত স্রষ্টা ঋষি ত্যাগরাজ এর তেলুগু ভাষায় রচিত অপূর্ব সঙ্গীতের মাধ্যমে ভরতনাট্যমের নাট্যধর্মী নৃত্য রূপায়িত হতে থাকে। তাঞ্জরের মহারাজা স্বোয়াদি থিরুমল সংস্কৃত ভাষায় বিষ্ণু বন্দনা সঙ্গীত রচনা করেন।

চিত্রঃ রুক্মিণী দেবী আরুন্দেল 
তাঞ্জরের রাজ দরবারের চিন্নাইয়া, পুন্নাইয়া, শিবনন্দন ও ওয়ারিভেলু এই চার ভাই, মাদুরার শ্রী সুভারায়া আন্নাভি, কল্যাণী সুন্দরম পিল্লাই, পেরিয়াতাম্বি আন্নাভি, পুন্যস্বামি আন্নাভি প্রভৃতি আচার্য দের নাম এই নৃত্যকলায় চিরস্মরণীয়।


ভরতনাট্যমকে পুনরুজ্জীবন ও সমৃদ্ধ করার জন্য যারা আত্ম নিবেদন করেছেন তাদের মধ্যে শ্রী কৃষ্ণ আয়ার ও শ্রীমতী রুক্মিণী দেবী আরুন্দেল এর নাম প্রথমেই উল্লেখ্য। দক্ষিন ভারতে যখন নাচের বিরোধী জনমত সংগঠিত করা হচ্ছিল তখন শ্রী কৃষ্ণ আয়ার এর বিরোধিতা করেন। এবং সংবাদপত্রের সহযোগিতায় ভরতনাট্যম নৃত্যকলার পুনরুজ্জীবন আন্দোলন শুরু করেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় শ্রীমতী বালা সরস্বতী বেনারসে ‘নিখিল ভারত সঙ্গীত মহা সম্মেলনে’ ভরতনাট্যম নৃত্য প্রদর্শনের সুযোগ পান।


শ্রীমতী রুক্মিণী দেবীর নাম ভারতের নৃত্য কলার গবেষণা ও প্রসারের ইতিহাসে সর্বকালে বিশেষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করতে হবে।তিনি কেবল মাত্র একজন কুশলী শিল্পী হওয়ার প্রয়াসেই আবদ্ধ থাকেননি। তৎকালীন সমাজের রক্ষণশীলতা ও বিধি নিষেধ তুচ্ছ করে নৃত্যকলাকে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আত্ম নিয়োগ করেছেন। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কারমুক্ত বুদ্ধিগত ভাবে নৃত্যকলার চর্চা তিনিই প্রবর্তন করেন।  

No comments:

Post a Comment