Monday, 28 November 2016

ভরতনাট্যম – সঙ্গীত

সঙ্গীত

   ভরতনাট্যম নৃত্যকলার অন্যতম প্রধান অঙ্গ সঙ্গীত। সঙ্গীত অংশে একজন সুকণ্ঠ শিল্পীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আবহ সঙ্গীতে বীণা, তম্বুরা, বাঁশি, নফরি, সারাংগি, বুদবুদিকা, মৃদঙ্গম, করতাল, বেহালা, সুর শৃঙ্গার, নাগেশ্বরম ও মন্দিরা ব্যবহৃত হয়।

    সাধারনভাবে ভরতনাট্যম নৃত্যে রুবকম, জাম্বাই, এরাবম, তিরুপদ্দাই, আড়াতালাম, মিত্তিয়াম, এক্তালাম প্রভৃতি নয়টি তালের ব্যবহার হয়। তালের পাঁচটি মাত্রার নাম সাধুশ্রম (চার মাত্রা), তিশ্রম (তিন মাত্রা), মিশ্রম (সাত মাত্রা), কাণ্ডম (পাঁচ মাত্রা) ও সঙ্গিরন্ম (নয় মাত্রা)। তাল গুলি বিভিন্ন মাত্রা ও যতি সহযোগে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।

    ভারতের সবকটি নৃত্যকলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল এই ভরতনাট্যম। মহৎ শিল্পের সবকটি গুণই এই নৃত্যে আছে। কাব্য, সঙ্গীত, নৃত্য ও অভিনয় এই চারটির মিলমিশে তৈরি হয় চতুরঙ্গ। শিল্পী মানসের প্রকাশ-উন্মুক্ত রূপ ভাবনা ললিত ছন্দে ও ভাবাভিনয়ের উৎকর্ষে দর্শক মন হয়ে ওঠে সহৃদয়। কাব্য, সঙ্গীত, নৃত্যে ও ছন্দের বিশিষ্ট বিভঙ্গে লীলায়িত একটি অনন্য রূপ ভাবনা দর্শককে রসমার্গে উদ্বোধিত করে।

    এখানে শিল্পীর হস্ত মুদ্রায় স্বর্গের ফুল ফোটে, দেহ ভঙ্গির বিচিত্র সঙ্গীতে সিন্ধু তরঙ্গের হিল্লোল লীলায়িত হয়, গ্রীবা বিভঙ্গে গর্ব ও নিবেদন বিচিত্র রঙ্গে মূর্ত হয়, আঁখি পল্লবের উন্মোচন ও পাতনে প্রতিবিম্বিত হয় – প্রেম, প্রতীক্ষা ও সংশয়।   

No comments:

Post a Comment