আদি কাণ্ড
গুরু ব্রহ্মা
গুরু বিষ্ণু
গুরু দেব মহেশ্বর
গুরু সাক্ষাৎ পরা ব্রহ্ম
তস্মৈ শ্রী গুরুবে নমঃ
বৈদিক মন্ত্র
উচ্চারণের মাধ্যমে শুরু হল নৃত্য। তবে চিত্ত অশান্ত চোল রাজের। এত সুন্দর নৃত্য,
দাসীদের প্রদর্শনী, মুদ্রা, শারীরিক ভঙ্গী, অভিব্যাক্তি নিখুঁত।সুর, তাল, ছন্দের এত মিলমিশ। প্রত্যেকটি ভঙ্গিমায় এতটুকু ত্রুটি নেই। কীভাবে? জন্ম
কোথায় এই নৃত্যের? কী ইতিহাস এর? জানতে যে
হবেই তাঁকে।
“তদাপূজোপহারশ্চ ভক্ষ্যভোজ্যা দিকৈস্তথা ।
পূজয়িত্বা জগন্নাথ তোয়য়েৎ গীতনৃত্যকৈঃ ।।’’ – স্কন্দপুরাণ
ভারতের মার্গ
নৃত্য ধারার পূর্ণাঙ্গ রূপের শ্রেষ্ঠতম অভিব্যক্তি ভরতনাট্যম। সাহিত্য, সঙ্গীত,
নৃত্যকলা, স্থাপত্য, চিত্রকলা, সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গের সমন্বয়ে ভরতনাট্যম
সারস্বত চেতনাসমৃদ্ধ মহিমায় প্রোজ্জ্বল। ভরতনাট্যমের নামকরণ নিয়ে নানা মুনির নানা
মত। ভাব, রাগ, তাল এই তিন রকম রস নিয়ে সৃষ্টি হয় নৃত্য। অনেকে তাই মনে করেন ভাব,
রাগ ও তাল এই তিনটি শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়েই উৎপত্তি ভরতনাট্যম নৃত্যশৈলীর। আবার
অনেকে মনে করেন ভরত মুনি প্রবর্তিত নৃত্য বলেই এই নৃত্যের নাম ভরতনাট্যম। তবে
কোনটি প্রকৃত কারন তা জানা আজও সম্ভব হয়নি।
মূলত দক্ষিণ ভারতে দর্শিত এই নৃত্য সম্পর্কে
আসমুদ্রহিমাচল ভারতবাসীর মনে ভ্রান্ত ধারণার ব্যাপক প্রসার দেখা যায়। নৃত্যকলা
সম্পর্কে যাদের তেমন চর্চা বা ধারণা নেই তারা অনেকেই ভরতনাট্যম কে দক্ষিণ ভারতের
আঞ্চলিক নৃত্য ধারা বলেই ভেবে এসেছেন। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। প্রকৃতপক্ষে
ভরতনাট্যম একটি নৃত্য মাত্র নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্রীয় নৃত্য পদ্ধতি, যা
অন্যান্য মার্গ নৃত্য ধারাতেও অনুসৃত হয়ে থাকে।
ভরতনাট্যম নিয়ে চর্চা শুধু মাত্র আজকের বা
একদিনের আলোচনার বিষয় নয়। একটি নৃত্য ধারার যাত্রা জানতে হলে ফিরে যেতে হবে আজ
থেকে কয়েকশ বছর আগে, যখন আমাদের দেশের দাক্ষ্যিনাত্বে রাজত্ব করত চোল, চালুক্য,
পল্লব বংশ। ফিরে যেতে হবে সেই সময় যখন থেকে চর্চা শুরু হয়েছে নৃত্যরত নটরাজকে
নিয়ে।
অসম্ভব সুন্দর অপূর্ব লেখা।ভরতনাট্যমের সম্পূর্ণ ইতিহাস জানতে পারলাম ।কিন্তু লেখকের নাম জানতে পারলাম না ।ওটা জানতে পারলে ভালো লাগত।অসংখ্য ধন্যবাদ লেখক কে।
ReplyDelete